দোয়া কুনুত এর ফজিলত | দোয়া কুনুত এর তাফসির

দোয়া কুনুত এর ফজিলত | দোয়া কুনুত এর তাফসিরদোয়া কুনুত একটি প্রসিদ্ধ দোয়া । এই দোয়া আমার প্রতিদিন ইশা এর নামাজের পরে বিতর নামাজে শেষ রাকাতে পড়ে থাকি । দোয়া কুনুত মহান আল্লাহ পাক এর প্রেরিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিতর নামাজে পড়তেন । সেই মোতাবেক আমরা আল্লাহ পাক এর প্রেরিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হিসাবে পড়ে থাকি ।

বিতের নামাজের এক/তিন/পাঁচ/সাত/এগারো রাকাত শেষ রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে বা রুকু থেকে উঠে দুই হাত তুলে বা বেধে দুআ কুনুত পাঠ করতে হয় । আজকের আলোচনায় এই দোয়ার ফজিলত এবং তাফসির সম্পর্কে আলোচনা করবো । তাহলে চলুন শুরু করা যাক ।


দোয়া কুনুত এর ফজিলত

আরও পড়তে পারেন: বাংলায় কিওয়ার্ড রিসার্চ ২০২২ । বাংলায় কিওয়ার্ড রিসার্চ এর পাঁচটি টুলস

দোয়া কুনুত এর ফজিলত

সব থেকে বড় ফজিলত হচ্ছে আমরা মানুষ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নগন্ন বান্দা হিসাবে তার কাছে নত হয়ে কায়মনো ব্যাক্যে নামাজে দাড়িয়ে মহান আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে তার সাহায্য চাওয়া । 

যখন বান্দা কায়মনো বাক্যে নামাজে দাড়িয়ে দোয়া কুনুতের বাক্য গুলো উচ্চারণ করে মহান আল্লাহ পাক তা কবুল করে নেন । মহান আল্লাহ পাক বান্দার প্রতি দয়া করে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন । এর থেকে বড় ফজিলত আর কি হতে পারে?

আবু দাউদ এবং আহমদ বিন হাম্বল এর বর্ণনা থেকে জানা যায় হাসান ইবনে আলী (রাঃ) এই দোয়াটি মুহাম্মাদের (সাঃ) কাছ থেকে শিখেছিলেন । দাউদ (রঃ) আরও বলেছেন যখন মুসলমানদের উপর কোন বিপদ-আপদ এবং বিপর্যয় আসতো তখন মহা নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দোয়া কুনুত পড়তেন । - মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা (৬৯৬৫)

দোয়া কুনুত এর তাফসির

দোয়া কুনুত এর তাফসির বা ব্যাখ্যা হচ্ছে নামাজের মাধ্যমে বান্দা হিসাবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সাহায্য চাওয়া ও ক্ষমা ভিক্ষা চওয়া । মহান আল্লাহ পাক যে আমাদের রব তা স্বীকার করে তার কাছে নত হয়ে সাহায্য ও ক্ষমা কামনা করা । 

মহান আল্লাহর কাছে এই বলে প্রতিজ্ঞা করা যে আমরা আপনার উপর ভরসা করি এবং আপনার মঙ্গল কামনা করি । মহান আল্লাহ পাকের কাছে আরও প্রতিজ্ঞা করা যে আমরা আপনার শোকর করি, যারা আপনার অবাধ্য তাদের নিকট হতে দূরে থাকি । 

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই উপাসনা- আরাধনা করি এবং আপনার কাছে মস্তক অবনত করি, আপনারই এবাদতের জন্যে সচেষ্ট থাকি এবং আপনারই অনুগ্রহের প্রত্যাশী ও আপনার আযাবকে ভয় করি । নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে ।

কুনুত শব্দের অর্থ কি?

আমরা সবাই বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়ে থাকি । অনেকেই জানতে চান “কুনুত” শব্দের অর্থ কি? “কুনুত” একটি আরবি শব্দ । “কুনুত” শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে আনুগত্য করা ।

দোয়া কুনুত কত প্রকার?

দোয়া কুনুত দুই প্রকার। যথাঃ

১) কুনুতে রাতেবা,

২) কুনুতে নাজেলা ।

কুনুতে বাংলা অর্থ সহ

দোয়া কুনুত আরবীঃ  اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ

“আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাইনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নুমিনু বিকা ওয়া নাতাওক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনী আলাইকাল খাইরা ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা কানফুরুকা নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাইইয়াফজুরুকা আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না বুদু ওয়ালাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাসআ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা ইন্না আযাবাকা বিলকুফ্ফারি মুলহিক ।”

দোয়া কুনুত এর বাংলা তরজমা

“হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমরা আপনারই সাহায্য কামনা করি এবং আপনার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি ও আপনাকে বিশ্বাস করি, আপনারই উপরই ভরসা করি এবং আপনার নিকট মঙ্গল কামনা করি । আমরা আপনার শোকর করি, যারা আপনার অবাধ্য তাদের নিকট হতে দূরে থাকি । হে আল্লাহ! আমরা আপনারই উপাসনা- আরাধনা করি এবং আপনার কাছে মস্তক অবনত করি, আপনারই এবাদতের জন্যে সচেষ্ট থাকি এবং আপনারই অনুগ্রহের প্রত্যাশী ও আপনার আযাবকে ভয় করি । নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে।”

কুনুতে নাজেলা বাংলা অর্থ সহ

দোয়া কুনুত আরবী (কুনুতে নাজেলা)ঃ  اللَّهُمَّ اهْدِنَا فِيمَنْ هَدَيْتَ ، وَعَافِنَا فِيمَنْ عَافَيْتَ ، وَتَوَلَّنَا فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ ، وَبَارِكْ لَنَا فِيمَا أَعْطَيْتَ ، وَقِنَا شَرَّ مَا قَضَيْتَ ، إِنَّكَ تَقْضِى وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ ، إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

কুনুতে নাজেলা বাংলা উচ্চারণ

“আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা, ওয়া আফিনী ফীমান আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা, ওয়া বারিকলী ফীমা আত্বাইতা, ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাযাইতা, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইয়ুক্বযা আলাইকা, ইন্নাহূ লা ইয়াযিল্লু মাঁও ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়া ইযঝু মান আদাইতা, তাবারকতা রব্বানা ওয়া তা আলাইতা, ওয়া ছাল্লাল্লাহু আলান নাবী ।”

দোয়া কুনুতে নাজেলা বাংলা অর্থ

“হে আল্লাহ! হেদায়েত করুন আমায়, যাদের আপনি হেদায়েত করেছেন তাদের সাথে । শান্তি-স্বস্তি দান করুন আমায়, যাদের আপনি শান্তি স্বস্তি দান করেছেন তাদের সাথে । অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন আমার, যাদের আপনি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে । বরকত দান করুন আমায়, যা আপনি দান করেছেন আমায় তাতে এবং রক্ষা করুন আমায় পর অনিষ্ট হতে, যা আপনি নির্ধারণ করেছ (আমার জন্য) । আপনার আজাব থেকে আপনি ছাড়া কোন আশ্রয় স্থল নেই । আর আমাদের নবীর উপর আল্লাহ্‌ আপনি রহমত বর্ষণ করুন।”

আরও পড়তে পারেন: বাচ্চাদের ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

দোয়া কুনুত কোন সূরার অংশ?

দোয়া কুনুত কোনো সুরার অংশ নয় । এটি নবী করিম (সাঃ) এর থেকে প্রাপ্ত একটি দোয়া । এই দোয়াটি বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমানিত এবং প্রসিদ্ধ । এজন্য দোয়া কুনুত বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা মেলানোর পর “আল্লাহু আকবার” বলে হাত উঠিয়ে আবার হাত বেধে দোয় কুনুত পড়তে হয় ।

দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ সহ ছবি

দোয়া কুনুত এর ফজিলত
দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ সহ ছবি

দোয়া কুনুত বাংলা অর্থ সহ ছবি

দোয়া কুনুত এর ফজিলত
দোয়া কুনুত বাংলা অর্থ সহ ছবি


দোয়া কুনুত ডাউনলোড pdf

এখান থেকে দোয়া কুনুত এর বাংলা উচ্চারন এবং বাংলা অর্থ ডাউনলোড করে নিতে পারেন । দোয়াকুনুত pdf ডাউনলোড লিংক

দোয়া কুনুত আহলে হাদিস

যারা আহলে হাদিস পন্থি তারা বলে বিতর নামাজে দোয়ায়ে কুনুত পড়া লাগে না । এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা । দোয়া কুনুত পড়ার ব্যাপারে “জামে আত-তিরমিজির” একটি সহীহ হাদিসে উল্লেখিত আছে । 

সেই হাদিসে উল্লেখ করা, হযরত আলী (রাঃ) বলেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাকে কিছু বাক্য শিখিয়েছেন । আর এই বাক্য গুলা তিনি বিতরের নামাজে পড়েন । সেই বাক্যগুলো হলো দোয়া কুনুত । অর্থাৎ, এই হাদিস দ্বারা দোয়ায়ে কুনুত পাঠের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট ।

বন্ধুরা আশা করি আজকের "দোয়া কুনুত এর ফজিলত | দোয়া কুনুত এর তাফসির" আলোচনা আপনাদের ভালো লেগেছে । এই রকম আনকমন এবং আপডেট সমস্ত লেখা পেতে চোখ রাখুন “বাংলা আইটি ব্লগ ৩৬০” ব্লগে । এছাড়াও যদি আরও কোনও বিষয়ে লেখা পড়তে চান তাহলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন । আজ এ পর্যন্তই । আল্লাহ হাফেজ ।


আরও পড়ুন: নফল নামাজ পড়ার নিয়ম । নফল কাকে বলে

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url